বরিশালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) নতুন কেন্দ্র নির্মাণে নিরাপত্তা বিধির চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫ তলা বিশিষ্ট অফিস ও ৪ তলা বিশিষ্ট ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণের কাজ চললেও সেখানে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী বা নেট ব্যবহার করা হয়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘MSCL-BA-MKT (JV)’ এর তত্ত্বাবধানে গত বছরের জুলাই থেকে কাজ শুরু হলেও প্রকল্পের শুরু থেকেই জননিরাপত্তার বিষয়টি চরমভাবে উপেক্ষিত।
নির্মাণাধীন ভবনের একদম পাশ দিয়েই স্থানীয়দের চলাচলের প্রধান রাস্তা বয়ে গেছে। কোনো বাউন্ডারি ওয়াল বা সতর্কবার্তা না থাকায় পথচারীরা সবসময় আতঙ্কে থাকেন যে ওপর থেকে কোনো নির্মাণসামগ্রী বা ইট পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই কাজ চলায় রাস্তার ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষ ও যানবাহন যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। জনবহুল এলাকায় এভাবে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া বহুতল ভবনের কাজ চালিয়ে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় হলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকিও এখানে চরম পর্যায়ে। ছবিতে দেখা গেছে, বাঁশের তৈরি ভঙ্গুর মাচায় দাঁড়িয়ে কোনো প্রকার ‘সেফটি হারনেস’ (নিরাপত্তা বেল্ট) ছাড়াই শ্রমিকরা উঁচুতে প্লাস্টার ও ইট গাঁথুনির কাজ করছেন। এছাড়া সাইটে কর্মরত শ্রমিকদের মাথায় হেলমেট, হাতে গ্লাভস কিংবা পায়ে বুট জুতোর মতো ন্যূনতম ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) দেখা যায়নি। এ যেন এক মৃত্যুফাঁদ, যেখানে সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে ঝরতে পারে শ্রমিকের প্রাণ।
সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবের পাশাপাশি নির্মাণ এলাকায় বৈদ্যুতিক তারের ব্যবহারেও চরম অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রকল্পের ভেতরে ও বাইরে যত্রতত্র লুজ কানেকশন দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছে, যা থেকে শর্ট সার্কিট বা শ্রমিক-পথচারী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি দ্রুত নেট লাগানো এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে, তবে যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।