মুহা. সাইদুল ইসলাম সানাউল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের শ্রীপুর ও সদর উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্যদের আদর্শিক, নৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ সদস্য তারবিয়াত (প্রশিক্ষণ) কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রবিবার (২১ জুন ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আয়োজিত এ কর্মশালায় দুই উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, শ্রীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সদস্যদের আত্মশুদ্ধি, দায়িত্বশীলতা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা নূরুল করীম আকরাম। তিনি বলেন, “একজন কর্মীর প্রকৃত শক্তি তার আদর্শিক দৃঢ়তা, নৈতিক চরিত্র ও সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করে।” তিনি সদস্যদের নিয়মিত আত্মসমালোচনা, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার তাগিদ দেন।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গাজীপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক (মাজিদুল)। তিনি সংগঠনের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও আদর্শবান কর্মীই একটি শক্তিশালী সংগঠনের মূল ভিত্তি। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ও দায়িত্বশীল কর্মী গড়ে তোলার বিকল্প নেই।”
বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এবং সদর উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা রহমতুল্লাহ। তিনি সদস্যদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রত্যেক সদস্যকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সদস্যদের আদর্শিক শিক্ষা, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ, দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা এবং দায়িত্বশীলতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। বক্তারা সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের নিয়মিত তারবিয়াত ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সদস্যদের যোগ্য, দক্ষ ও আদর্শবান কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংহত ও গতিশীল করবে। দেশের কল্যাণ, মানবসেবা এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা পালনে এ কর্মশালা সহায়ক হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।