♦ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (জাপা) ১,৪৬,৭৯৮ ভোট
♦ আমিরুজ্জামান পিয়াল (ইসলামী আন্দোলন) ৪৯,৮৯২ ভোট
♦ লতিফুর রহমান মিলন (বিদ্রোহী-আ. লীগ) ৩৩,৮৮৩ ভোট
♦ হোসনে আরা লুত্ফা ডালিয়া (আ. লীগ) ২২,৩০৬ ভোট
নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার পর এই বছর আরো একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো রংপুরে। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণে কোনো সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল রাতে রংপুর বিভাগীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ২২৯টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে জাপার প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা লাঙল প্রতীক নিয়ে এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৯২ ভোট।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী লতিফুর রহমান মিলন হাতি প্রতীকে ৩৩ হাজার ৮৮৩ ভোট এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুত্ফা ডালিয়া নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২২ হাজার ৩০৬ ভোট। ভোট প্রদানের হার ৬৫.৯১ শতাংশ। নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে রংপুরে জাতীয় পার্টি তাদের দুর্গ আরো সুসংহত করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
নির্বাচন কমিশনও ভালো ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বছর শেষ করল। আগামী বছরের শেষের দিকে এই কমিশনের অধীনে শুরু হবে জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোল। এর আগে ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ ও ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়েছিল। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়ক রাজেশ দে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। এটা ইতিবাচক।
নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে জনগণও খুশি। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান তাঁর আগের মেয়াদে বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো কোনো কাজ করেননি। স্বাভাবিক যে উন্নয়নমূলক কাজ ছিল, তা-ই করেছেন। এ অঞ্চল জাতীয় পার্টির ঘাঁটি। সে ভোটকে পুঁজি করে তিনি জয় পেলেন।
নির্বাচনে গোলযোগ না হলেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভোটগ্রহণে ধীরগতির অভিযোগ ছিল। বয়স্কদের আঙুলের ছাপ না মেলায় দিনের শেষভাগে দীর্ঘ লাইনের কারণে কোথাও কোথাও হট্টগোল করেন ভোটাররা। প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিতে পেরে অনেকে আবার উচ্ছ্বসিত ছিলেন।
সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পড়ন্ত বিকেলে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। যার কারণে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও অন্তত ৭০ কেন্দ্রে ভোট নিতে হয়েছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসি কর্মকর্তারা জানান।
নির্বাচনে পুলিশ, র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কড়া পাহরায় ছিল। আনসার সদস্যরা কেন্দ্রে ভেতরে-গেটে ভোটারদের সহযোগিতা করেছেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট : সিইসি
নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিসি ক্যামেরায় ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। বিকেল ৫টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ধীরগতি, এ ছাড়া ভোটার উপস্থিতিও বেশি। এ কারণে ভোটগ্রহণ শেষ হতে রাত ৮টা বাজতে পারে। এর আগে দুপুরের দিকে ভোট চলাকালে সিইসি নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রংপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ভোটারদের উপস্থিতি আমাদের মতে সন্তোষজনক। সিসিটিভির মাধ্যমে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। ’